বগালেক কে বলা হয় কেওকারাডং চূড়ার বেস ক্যাম্প। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার কারণে কালের পরিক্রমায় বান্দরবানের এক সময়ের জনপ্রিয় রুট আজ নিস্তেজ হয়ে পরেছে। সেসব এখন শুধুই স্মৃতি। স্মৃতির মেমোরিতে কিছু জিনিষ কখনোই নিস্তেজ হয়ে যায় না।তার মধ্যে সিয়াম বম দির কটেজ। যারা আগে থেকে বান্দরবানে ট্রেকিং ট্রাভেল করেন ওদের সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই। নতুনদের জন্য এটি একটি ভালো তথ্য হতে পারে। আমি হলফ করে বলতে পারি এমন উদার আতিথেয়তা পুরো বান্দরবানে কোথাও কোন কটেজে আজ পর্যন্ত কেউ পায়নি আর পাবেও না।

শিক্ষার গুণ আসলে কি জিনিষ সেটা আপনি সিয়াম দির সংস্পর্শে না গেলে বুঝবেন না। একজন গ্র্যাজুয়েট মহিলা হয়েও তিনি মাটির টানে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন সেই নীরব নিস্তব্ধ পাহাড়ে। ওনার স্বামী ঢাকায় থাকেন চাকুরীর সুবাদে আর দিদি পরিবার পরিজন নিয়ে কটেজ সামলান। আমি যখন প্রথম গিয়েছিলাম ওনার সন্তান তখন কয়েক মাসের শিশু। ওই অবস্থাতেই উনি যেভাবে আমাদের আপ্যায়ন করেছেন সেটা আসলেই উল্লেখ করার মত। প্রত্যেক ট্রাভেলারদের উনি ভাই বোন হিসেবে দেখেন। নিজের হাতে খাবার বেড়ে দেন,নিজ হাতে বিছানা গুছিয়ে দেন। এমনকি আসার সময় আমার ব্যাগ পর্যন্ত গুছিয়ে দিয়েছিলেন একবার।

সিয়াম বম কটেজসিয়াম বম কটেজ

 

আমি পুরো বান্দরবানে যত জায়গায় গিয়েছি একমাত্র ওনার কাছেই বড় অঙ্কের টাকা না গুনে রেখে যেতাম। যদি ওনার সাধ্য থাকত আমার পছন্দ মত খাবার ওনি আলাদা ভাবে রেধে দিতেন।আমি সাধারনত পাহাড়ী রান্না খেতাম। রান্নার সময় আমি ওনার চুলার পাশে বসে ওনার সাথে অনেক আড্ডা মেরেছি। আমরা একবার রাত ৪ টা পর্যন্ত ঘুমাইনি। পুরো বগালেক ঘুমিয়ে গেছে দিদি শুধু আমাদের জন্য জেগে ছিলেন। মোট কথা দিদি আমাদের টেনশন নিজের করে নেন। এই সম্পর্ক শুধুমাত্র আমার সাথে নয়, সবার সাথে না হোক অনেকের সাথেই আছে দিদির।শুধুমাত্র কোন অনৈতিক কাজ করলেই দিদির দূর্গারূপ দেখতে পাবেন। সুতরাং সাবধান।

কটেজের রং চা অবশ্যই খাবেন।আর তাজা কলাত আছেই। আমি একবার দিদির কাছ থেকে এক ছড়া কলা ফ্রি পেয়েছিলাম।সেটা বাড়িতে এনে আয়েশ করে কয়েকদিন ধরে খেয়েছি।

বগালেক যারা এখনো যাননি যাবার আশায় আছেন দিদি ও তার কটেজের সাথে অবশ্যই দেখা করবেন।আমি নিশ্চিত এটা হবে আপনার জীবনের সেরা আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা।