থাইল্যান্ডে গিয়ে কনফারেন্সের কারণে ব্যাংককে চারদিন থাকার পর দুদিনের জন্য ফুকেট-এ গেছিলাম। ফুকেট-এ যাওয়ার কারণও অবশ্য অনেকের কাছে অদ্ভুত লাগতে পারে – থাই এয়ারওয়েজ-এর বোয়িং ৭৪৭-এ ভ্রমণের অভিজ্ঞতার জন্যই ডেস্টিনেশন হিসেবে ফুকেট বেছে নিয়েছিলাম। এজন্য ফুকেট-এ দেখার মতো কী কী যায়গা আছে, তা সম্পর্কে আগেভাগে তেমন জেনে যেতে পারি নি।

যাই হোক, ফুকেট-এ গিয়ে আমি পাতং সি বীচের ঠিক সাথেই একটা হোটেলে উঠেছিলাম, সেই হোটেল থেকেই ফাং না বে –এর দ্বীপগুলোতে বোট রাইডের একটা প্যাকেজ বুক করে রেখেছিলাম (অনলাইনে বুক করলে প্রায় দ্বিগুণ খরচ পড়ে)। সকাল সাতটার দিকে ওদের গাড়ি এসে হোটেল থেকে সরাসরি আও পো পিয়েরে নিয়ে গেলো, সেখান থেকে ত্রিশজনের একটা দলের সাথে সমুদ্রভ্রমণ শুরু। গন্তব্যঃ কোহ পানাক →  কোহ হং →  কাও ফিং কান (জেমস বণ্ড আইল্যান্ড) →  লাওআ

সামনাসামনি এই প্রথমবার সমুদ্রের নীল জলের দেখা মিললো।  সামনাসামনি এই প্রথমবার সমুদ্রের নীল জলের দেখা মিললো।

সামনাসামনি এই প্রথমবার সমুদ্রের নীল জলের দেখা মিললো।  সামনাসামনি এই প্রথমবার সমুদ্রের নীল জলের দেখা মিললো।

 

সামনাসামনি এই প্রথমবার সমুদ্রের নীল জলের দেখা মিললো।  সামনাসামনি এই প্রথমবার সমুদ্রের নীল জলের দেখা মিললো।

আমাদের প্রথম গন্তব্যস্থল ছিলো কোহ পানাক (Koh Panak) নামের একটা দ্বীপ। এই গুহা ব্যাটকেইভ নামেও পরিচিত, কারণ এর মধ্যে ঢুকে উপরের দিকে তাকালে শতসহস্র বাদুর ঝুলে থাকতে দেখা যায়। গুহার মধ্যে ফোনের ক্যামেরা দিয়ে তেমন কোনো ভালো ছবি আনতে না পারায় সেগুলো দেখানো সম্ভব হলো না। এই গুহার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জোয়ার ভাটার সাথে জলের স্তর কমবেশি হওয়ার কারণে গুহামুখ এক এক সময়ে জলের নিচে চলে যায়, আবার প্রবেশপথ উন্মুক্ত হয়ে যায়। এ কারণে বিকেলের দিকে সাধারণত গুহার মধ্যে ঢোকা সম্ভব হয় না।

চুনাপাথরের এই বলয়ের মধ্যে বড় গুহা আছে, যেখানে ক্যান্যু নিয়ে ঢুকতে হয়। বোট-এ বসে ইংল্যান্ড থেকে আসা এক ট্যুরিস্ট-এর সাথে পরিচয় হয়ে যায়, আর পরে আমরা দুজনে ক্যান্যু শেয়ার করে ব্যাটকেইভে ঢুকি।

গুহার মধ্যে এক কোণে বাইরের থেকে আলো আসায় তা জলের মধ্যে উজ্জ্বল সবুজ রং-এর আলো তৈরি করে। গুহার মধ্যে এক কোণে বাইরের থেকে আলো আসায় তা জলের মধ্যে উজ্জ্বল সবুজ রং-এর আলো তৈরি করে।

 

ভিতরে স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাকমাইট-এর বিন্যাসে (গুহার উপরাংশ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় জল পড়তে পড়তে চুনাপাথরের জমাট বাঁধা অংশগুলোকে স্ট্যালাকটাইট, আর গুহার নিচের ও পাশের অংশে স্তম্ভের মতো চুনাপাথরে গঠিত অংশগুলোকে স্ট্যালাকমাইট বলে) গুহার মধ্যে নৌকা নিয়ে চলার সময় আধো আলোতে এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি করে।

স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাকমাইট। স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাকমাইট।

গুহার প্রবেশপথ। গুহার প্রবেশপথ।

গুহার প্রবেশপথ। গুহার প্রবেশপথ।

 

অপরূপ এই দ্বীপগুলোঅপরূপ এই দ্বীপগুলো

কোহ পানাক থেকে বের হবার পর পরবর্তী গন্তব্য কোহ হং (Koh Hong)। মূল বোটে উঠে প্রায় আধা ঘণ্টা অপরূপ এই দ্বীপগুলো দেখতে দেখতে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটাই মন ভালো করে দেয়।  

অপরূপ এই দ্বীপগুলোঅপরূপ এই দ্বীপগুলো

অপরূপ এই দ্বীপগুলোঅপরূপ এই দ্বীপগুলো

অপরূপ এই দ্বীপগুলোঅপরূপ এই দ্বীপগুলো

কোহ হং-এ আবারো মূল বোট থেকে নেমে ক্যান্যুতে চড়ে দ্বীপে ঘোরা শুরু। এটাও চুনাপাথরের স্তরের মাঝে গঠিট একটা দ্বীপ, যার চারেপাশে ম্যানগ্রোভ বন গড়ে উঠেছে। এ দ্বীপপুঞ্জের বিশেষত্ব হচ্ছে এখানের জলের রং – কোথাও পান্নার মতো সবুজ, কোথাও উজ্জ্বল ফিরোজা।  

এ দ্বীপপুঞ্জের বিশেষত্ব হচ্ছে এখানের জলের রং এ দ্বীপপুঞ্জের বিশেষত্ব হচ্ছে এখানের জলের রং

এ দ্বীপপুঞ্জের বিশেষত্ব হচ্ছে এখানের জলের রং এ দ্বীপপুঞ্জের বিশেষত্ব হচ্ছে এখানের জলের রং

ক্যান্যু নিয়ে এটার মধ্যে দিয়ে বের হবার সময় একটা পর্যায়ে পাথরের মাঝে ক্যান্যু আটকে গেছিলো।ক্যান্যু নিয়ে এটার মধ্যে দিয়ে বের হবার সময় একটা পর্যায়ে পাথরের মাঝে ক্যান্যু আটকে গেছিলো।

ক্যান্যু নিয়ে এটার মধ্যে দিয়ে বের হবার সময় একটা পর্যায়ে পাথরের মাঝে ক্যান্যু আটকে গেছিলো।ক্যান্যু নিয়ে এটার মধ্যে দিয়ে বের হবার সময় একটা পর্যায়ে পাথরের মাঝে ক্যান্যু আটকে গেছিলো।

 

জেমস বন্ড আইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে জেমস বন্ড আইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে

কোহ হং-এর থেকে বোটে ফেরার পর লাঞ্চ শেষ করে জেমস বন্ড আইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হলো।

বৃষ্টি নামার ঠিক আগেই। বৃষ্টি নামার ঠিক আগেই।

বৃষ্টি নামার ঠিক আগেই। বৃষ্টি নামার ঠিক আগেই।

মূল বোট থেকে ট্রলারে চড়ে কাও ফিং কান (Khao Phing Kan) – এ যেতে হয়, যা জেমস বন্ড আইল্যান্ড হিসেবেই বেশি পরিচিত। “দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান” চলচিত্রের শ্যুটিং-এ এই দ্বীপ দেখানো হয়েছিলো বলে সেই থেকেই এই জায়গাটা এই নামেই বেশি পরিচিত।  

থাই ভাষায় কাও ফিং কান শব্দের অর্থ হচ্ছে হেলান দিয়ে থাকা পাহাড়। এখানে ছোটবড় পাথুরে পাহাড় একটা আরেকটার সাথে লেগে রয়েছে। ট্রলার থেকে নামার পরই প্রথমে যেটা চোখে পড়ে, সেটা হচ্ছে বিশাল একটা পাথর যেটা অভিকর্ষজ বলের কারণে কোনো এককালে হেলে পড়েছিলো তার ঠিক পাশের পাথরের উপর – এবং সেটার মধ্যে দিয়েই এই দ্বীপটি গঠিত হয়েছিলো।

কাও ফিং কান কাও ফিং কান

হেলে পড়া সেই পাথরের একটা। হেলে পড়া সেই পাথরের একটা।

কো টা পু – যেখানে জেমস বন্ড-এর শ্যুটিং হয়েছিলো। কো টা পু – যেখানে জেমস বন্ড-এর শ্যুটিং হয়েছিলো।

পাহাড়ি গাছপালা। পাহাড়ি গাছপালা।

জেমস বন্ড আইল্যান্ডের পর আমরা কিছু সময়ের জন্য লাওআ আইল্যান্ডে গেছিলাম (মেমোরি কার্ডের কিছু ফাইল করাপ্ট হয়ে যাওয়ায় এইখানের ছবিগুলো দেওয়া গেলো না), যেখানে সাঁতার কাটার জন্য বলা চলে পুরো বোটের অধিকাংশ মানুষ নেমে পড়েছিলো।

এসব জায়গাগুলোর সৌন্দর্যই মন ভালো করে দেয়। এসব জায়গাগুলোর সৌন্দর্যই মন ভালো করে দেয়।

যারা থাইল্যান্ডে বেড়াতে আসবেন, তারা অবশ্যই এই ট্যুরগুলো করার চেষ্টা করবেন। এসব জায়গাগুলোর সৌন্দর্যই মন ভালো করে দেয়।