ঈদ-উল-আযহা মুসলিমদের বৃহত্তম উৎসব। এই ঈদের মানেই যেহেতু পশু কুরবানি দেওয়া তাই আয়োজনটা নিয়ে ব্যস্ত সময় যায় সবারই। রোযার ঈদে দেখা না হলেও এই ঈদে পরিবারের সবাই একসাথে থাকবেন এমন কামনা থাকে প্রিয়জনদের মনে। তাই ভালোবাসার টানে, উৎসবকে আরও রঙিন করে তুলতে আমরা সবাই ছুটি বাড়ির পথে।

বহুদিন পর সবার একসাথে দেখা হওয়ার আনন্দ বুকে যাত্রা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত কিন্তু এই আনন্দ অনেকটাই ফিকে হতে শুরু করে পথের ঝক্কিতে। ৫/৬ ঘন্টার পথ ১২ ঘন্টা থেকে শুরু করে ২৪ ঘন্টাও লেগে যায়। তার উপর এখন ভীষণ গরম। অসুস্থ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই আগে থেকেই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করুন।

পথের শ্রান্তির সাথে সাথে আপনার যদি মোশন সিকনেসের প্রবণতা বেশি হয় তাহলে ব্যাপারটা আরো ভয়াবহ হতে পারে। আপনার জন্য তুলে ধরছি কিছু পরামর্শ-

গভীর শ্বাস

গাড়ি উঠার পরই গভীর একটা শ্বাস নিতে হবে। এমনটা বারবার করলে বমিভাব কমে যাবে। সেই সঙ্গে কমবে মাথা যন্ত্রণাও।

গভীর শ্বাসগভীর শ্বাস

লেবু ও কালো নুন

ভ্রমণের সময় মাথা ঘোরা শুরু হচ্ছে বা বমি পাচ্ছে এমন ভাব হলেই এক পিস লেবুতে একটু কালো নুন দিয়ে চুষতে শুরু করা যেতে পারে। এতে সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

আদা

ভ্রমণের সময় বারবার আদা চা পান করা যেতে পারে। এমনটা করলে মাথা যন্ত্রণা ও বমি হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়।

আদাআদা

ঘি মাসাজ

গাড়ি করে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার একদিন আগে পায়ের তলায় ঘি মাসাজ করে নেয়া যেতে পারে। এমনটা করলে ভ্রমণের সময় আর বমি ভাব হবে না। ভ্রমণকালীন মাথা যন্ত্রণা কমাতেও এই পদ্ধতিটি দারুন কাজে আসে।

এছাড়াও 

১। এমন আসন বেছে নিন যেখানে ঝাকুনি কম লাগে। অনেকেই মনে করেন, জানালার কাছে বসাই সমাধান। কিন্তু তা নয়। আসন নির্বাচনের ক্ষেত্রে কম ঝাকুনি লাগে এমন আসন বেছে নিন।

২। বমির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ আগে খেয়ে নিন। অর্থাৎ ভরা পেটে বা খালি পেটে যাত্রা শুরু করা যাবে না।

৩। জানালা খোলা রাখুন বা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন জায়গায় বসুন।

৪। অবশ্যই ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পড়ুন। ঈদের ঝলমলে জামাটি নাহয় ঈদের দিনই পরবেন!

৫। মোশন সিকনেস আপনার দেখতে থাকা পথের গতির কারণেও হতে পারে। অর্থাৎ আপনি যদি এমন স্থানে বসেন যেখান থেকে গাড়ির একেঁবেকেঁ যাওয়া, ঝাকি খাওয়া সবই দেখতে পাচ্ছেন সেক্ষেত্রেও আপনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই সানগ্লাস পরুন বা চোখ বন্ধ করে রাখুন।

সানগ্লাসসানগ্লাস

৬। ঠিকমতো পানি পান করুন। যাত্রাপথে হয়ত ক্ষিদে তো পাবেই, তবে ভাজা পোড়া খাবেন না। সম্ভব হলে ঘরের খাবার সাথে বহন করুন।

৭। আপনার সাথে আদা রাখুন। অবাক হচ্ছেন? আদা খুবই উপকারী খাবার। আদা চিবোতে থাকলে অসুস্থবোধ কমে আসবে। আদা না থাকলে লেবু বা চুইংগাম সাথে রাখুন। লেবুর ঘ্রাণ মানুষকে সতেজ রাখে।

৮। দূর্গন্ধ থেকে অবশ্যই অবশ্যই দূরে থাকুন। ইঞ্জিন অয়েলের গন্ধ, ঘামসহ যে কোনো বাজে গন্ধই আপনাকে অসুস্থ করতে পারে। তাই সেটি খেয়াল করে আসন নির্বাচন করুন।

তথ্যসূত্র: উইকিহাও ও ইন্টারনেট