ভ্রমণ-মানুষের প্রিয় একটি শখ। সৌন্দর্যপিপাসু মানুষদের কাছে ভ্রমণ যেন অনেকটাই নেশার মতো। সৌন্দর্য আবিষ্কারের নেশায় মত্ত থাকেন অনেকেই। তবে আপনি যেখানেই ঘুরতে বা বেড়াতে যান না কেন, তার যেন কোনরুপ অপূর্ণতা না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখাটাও প্রয়োজন। তাই ভ্রমণের আগে ও ভ্রমণের সময় কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় মেনে চলাটা অনেকটা বাধ্যতামূলক। ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য নিরাপদ ভ্রমণে কিছু টিপস দেয়া হলো।

স্থান ও সময়জ্ঞান:

যে স্থানেই ভ্রমণে যাওয়ার জন্য মনস্থির করুন না কেন, সে স্থানের আবহাওয়া, প্রাকৃতিক অবস্থান, যাতায়াতের ব্যবস্থা, খাবার ও খাবারের দাম সম্পর্কে আগেই ধারণা নিয়ে নিন। আবাসিক অবস্থা, ওই স্থানের মানুষের মানসিক অবস্থা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আপনার আগেই ধারণা নেয়া দরকার।

সঠিক পরিকল্পনা:

সব কাজের আগেই চাই সঠিক পরিকল্পনা। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও তা অত্যাবশ্যকীয়। হঠাৎ করেই ঘুরতে বেড়িয়ে পড়লে নানা রকম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে পারেন। তাই প্রয়োজন আগে থেকেই কিছু পরিকল্পনা করে নেয়া। ভ্রমণে কতদিন থাকবেন সে অনুসারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেয়াও জরুরি।

পরিকল্পনাপরিকল্পনা

আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র:

ভ্রমণের জন্য চাই নানা রকম আনুষঙ্গিক জিনিস। যেগুলো না হলেই যেন নয়। এর মধ্যে প্রথমেই আসে ক্যামেরার কথা। ভ্রমণের সময় ফ্রেমে ফ্রেমে বাঁধা স্মৃতি আপনার বিষণ্ণ সময়গুলোকে মধুর করে তুলবে। তাই ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না। ঋতু অনুসারে পোশাক, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন, খাবার পানির বোতল, স্যান্ডেল, রাতে ঘুমানোর জন্য আরামদায়ক পোশাক, মোবাইল ফোন ও চার্জার, চশমা, টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, শেভ করার সরঞ্জাম এবং আপনাকে সুন্দর ও পরিপূর্ণ করার জন্য যা যা প্রয়োজন সবই সঙ্গে নেয়া প্রয়োজন।

ব্যাক প্যাক বা প্যাকার:

কোথাও যাওয়ার আগে ব্যাক প্যাকার বা পেছনে ঝুলন্ত ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভ্যেস করুন, যা পর্যটন বান্ধব। কেননা ভ্রমণে যাওয়ার আগে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের কাপড়চোপড় ও নানা জিনিসপত্র নিতে চান। তাদের জন্য এটি খুবই কাজে দেবে।

আলাদা-আলাদা টাকা রাখুন:

বাড়িতে কীভাবে আপনার এটিএম কার্ড কিংবা চেক বই অথবা টাকা-পয়সা রাখতে হয় তা অবশ্যই ভালোভাবে জানেন! তবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সেভাবে টাকা-পয়সা রাখতে যাবেন না। এক জায়গায় টাকা কিংবা এটিএম কার্ড হারিয়ে গেলে বিপদে পড়তে হবে!

মানিব্যাগ বা পার্স কখনই জিন্সের পকেটে নয়:

প্যান্টের পেছন পকেটে মানিব্যাগ বা পার্স রাখা এড়িয়ে চলুন। জ্যাকেটের সামনের পকেটে রাখার চেষ্টা করুন। এছাড়া কোমরে শার্টের নিচে আলাদা বেল্টওয়ালা ব্যাগও সঙ্গে রাখতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ফটোকপি অথবা স্ক্যান করে রাখুন:

 ভ্রমণে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র অর্থাৎ পাসপোর্ট এবং ভিসা, ভ্রমণ বিমা ইত্যাদি ফটোকপি ও স্ক্যান করে সঙ্গে রাখুন। তবে তা কোনোভাবেই লাগেজে রাখতে যাবেন না। লাগেজ হারিয়ে গেলে বেশ কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হবে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে। তবে ডিজিটাল বিশ্বে এসব নথিপত্র স্ক্যান করে মেইলেও অ্যাটাচ করে রাখতে পারেন।

অপরিচিত কিংবা আগন্তুক থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন:

ভ্রমণের সময় বন্ধু বেশধারী আগন্তুক কিংবা অপরিচিতদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলুন। কারণ তারা আপনার সর্বনাশের কারণ হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত ও ভ্রমণ নিরাপত্তার জন্য তাদের এড়িয়ে চলাই উত্তম।

ভ্রমণ বিমা করুন:

সাধারণত ভ্রমণে গিয়ে অসুস্থ কিংবা আহত হলে চিকিৎসার জন্য বিমা করা হয়ে থাকে। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের খরচাপাতি ওই বিমা থেকে পাওয়া যেতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও সঙ্গে রাখুন:

ধরুন, কোথাও ভ্রমণে গিয়ে আপনি অসুস্থ্ হয়ে পড়লেন কিংবা সামান্য আহত হয়েছেন! তখন কী করবেন? হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যেতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে কাছে থাকা বিভিন্ন ওষুধ বা প্রাথমিক ওষুধপত্র কাজে লাগবে।

first aid kitfirst aid kit

প্রাচুর্যতা পরিহার করুন:

কোথাও ভ্রমণে গিয়ে বিত্ত-বৈভব কিংবা আপনার প্রাচুর্যতা দেখাতে যাবেন না। সেক্ষেত্রে তা হিতে বিপরীত হতে পারে, মুখোমুখি হতে পারেন নানা ঝামেলার। দামি জিনিসপত্র বিশেষ করে স্বর্ণালঙ্কার ও ক্যামেরার কারণে ছিনতাইকারীদের টার্গেট হতে পারেন আপনি। সুতরাং বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ…

নিরাপদে রাখুন লাগেজ:

রেস্টুরেন্ট কিংবা কোনো এলাকায় আপনার লাগেজ রেখে চলে যাবেন না। এতে লাগেজ হারাতে পারেন। তাই যত সম্ভব লাগেজ কিংবা ব্যাগটি কাছাকাছি রাখুন।

লাগেজ নিরাপদলাগেজ নিরাপদ

ইন্টারনেট ক্যাফেতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে সতর্ক হোন:

ভ্রমণের সময় ইন্টারনেট ক্যাফেতে আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হোন। কেননা অনেক সময় ক্যাফেতে আপনার ক্রেডিট কার্ডে কী রেকর্ড করে রাখার মতো হার্ডওয়ার বা সফটওয়ার থাকতে পারে। যদি এমন হয় তবে আপনাকে বেশ ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।

ইন্টারনেট ক্যাফেইন্টারনেট ক্যাফে

ভেবে চিন্তে ভ্রমণ সঙ্গী বাছাই করুন:

আপনার কোনো স্বীকৃত শত্রুর সঙ্গে ভ্রমণে যাবেন না কখনোই। তিনি যদি প্রতিশোধ প্রবণ হন তবে আপনাকে ভুলিয়ে বিপদে ফেলতে পারেন। যদি ওই ব্যক্তি ভ্রমণে কোনো অঘটন ঘটিয়েই ফেলে তবে আপনি চিৎকারও করেও কারও সাহায্য পাবেন না। তাই ভেবে চিন্তে ভ্রমণ সঙ্গী বেছে নেয়াই উত্তম।

ভ্রমণের সময় যে কাজগুলো করা উচিত নয়:

অতিরিক্ত খাবার না খাওয়াটাই উত্তম, এতে আপনি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। তাছাড়া, পেটের সমস্যা হতে পারে, তাই বাইরের খাবার বেশি না খাওয়া। কারণ পর্যটন এলাকায় বাইরের খাবারের ছড়াছড়ি থাকে, তাই একটু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। পর্যটন এলাকায় নিষিদ্ধ স্থানে বা নিষিদ্ধ কোনো কাজ কোনো অবস্থায়ই করবেন না। প্রয়োজনের বেশি ব্যাগ নিবেন না, তাতে করে বেড়াতে বাধার সৃষ্টি হতে পারে।